ভারত ও আওয়ামী লীগ : ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষের কারণব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী তাদের Divide and Role Policy বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাদের কলোনীগুলোতে মিথ্যা এবং কল্পিত ইতিহাস রচনা ও পাঠ্য করেছে। তাদের ধর্মগ্রন্থকে বিকৃত করেছে। গোত্রে-গোত্রে ও ধর্মে-ধর্মে বিভেদের কাল্পনিক ইতিহাস রচনা করে এবংঅজস্র ধর্মীয় ফেরকা সৃষ্টি করে উক্ত কলোনীর জনমানসকে বহুধা বিভক্ত করে সংঘর্ষাবস্থা সৃষ্টি করে রেখেছে। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষকে দ্বিখণ্ডিত করে চলে যাওয়ার সময় ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী তাদের উত্তরসূরি হিসেবে রেখে যায় নেহেরু নেতৃত্বাধীন ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারতীয় শাসকগোষ্ঠীকে। ফলে ৪৭’ পরবর্তী সময় থেকে অদ্যাবধি ভারতীয় শাসকগোষ্ঠী সমগ্র উপমহাদেশের জনগণকে একইভাবে ‘বিভক্ত করো- শাসন করো’ পদ্ধতির আওতায় এনে সকল কিছু গ্রাস করার চেষ্টা করছে এবং অব্যাহতভাবে বিভিন্ন জাতির ইতিহাস বিকৃত করে জাতিসত্তার মৌলিক বিষয়সমূহের উপর আঘাত হানছে।ভারত-আওয়ামী লীগের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষের কারণ অনসুন্ধান করতে গেলেও দেখা যাবে, কিভাবে ভারত- পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জনগণকে বহুধা বিভক্ত করে সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত করছে। যাতে উভয় দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়ে এবং চরম দুর্বল হয়ে গিয়ে আগ্রাসী ভারতেরে আহারে পরিণত হয়। এই বইতে এমন চাপাপড়া তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, যেগুলো সঠিকভাবে প্রচারিত হলে ভারতের নোংরা খেলার মুখোশ উন্মোচিত হয়ে পড়বে এবং আমাদের মাতৃভূমি প্রিয় বাংলাদেশ সংঘাত-সংঘর্ষ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সঠিক ইতিহাসের আলোকে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।ভারত-আওয়ামীলীগ সম্পর্ক
আওয়ামী লীগের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষের কারণ অনুধাবন করতে হলে আওয়ামী লীগের জন্ম, জন্মদাতা এবং জন্মদানের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে পর্যালোচনা করতে হবে।এ বিষয়ে উইনস্টন চার্চিলের একটি অমর উক্তি (“The Longer you can look back, the farther you can look ahead” অর্থাৎ ‘যত দূরবর্তী অতীত ইতিহাস তুমি জানবে- তত দূরতম ভবিষ্যৎ তুমি দেখবে’) প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ করতে হবে।
৭১১ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মাদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয় থেকে শুরু করে ১৭৫৭ সালের পলাশী বিপর্যয়, টিপু সুলতানের পরাজয়, দিল্লী পতন, ১৮৫৮ সালের সিপাহী বিপ্লবে মুসলমানদের চূড়ান্ত পতন এবং ১৮৭০ পরবর্তী মুসলমানদের উত্থান প্রক্রিয়া, ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা, ১৯৭১ সালের পাকিস্তান ভাঙা এবং ৭১ পরবর্তী পুনরায় মুসলিম শাসনের পতনের ধারাবাহিকতা ইত্যাদির কারণ ও উপাদানসমূহ বিশ্লেষণ করলে আওয়ামী লীগের জন্মদাতা ও পালন কর্তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়ে যাবে। ৭১১ সাল থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন মুসলিম শাসনের সময় ভারতবর্ষের জনগণ একজাতির ন্যায় বসবাস করেছিল। কেননা, মুসলিম শাসনামলে ধর্মের কারণে, বর্ণের কারণে এবং সম্প্রদায়ের কারণে কখনো প্রতিপক্ষ অত্যাচারিত হয়নি। উক্ত আমলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গারও কোনো নজির নেই। এতদসত্ত্বেও ভারতের বর্ণবাদী হিন্দুরা মনের দিক থেকে কখনো মুসলিম শাসন মেনে নেয়নি। মুসলমানদের উদারতার সুযোগ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায় প্রথমে শক্তি সঞ্চয় করে এবং পরবর্তীতে ভারতবর্ষ থেকে মুসলিম শাসন উৎখাত করতে ইউরোপীয়ানদেরকে এ দেশের শাসন ক্ষমতায় বসায়। দীর্ঘ ১৯০ বছর এই ইঙ্গ-হিন্দু চক্র মুসলমানদেরকে ভারতবর্ষ থেকে নিশ্চিহ্ন করার যাবতীয় প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। এ সময়ে মুসলমানদেরকে ভারতবর্ষের জমির মালিকানা থেকে, সরকারি চাকরি থেকে এবং সেনাবাহিনী থেকে উচ্ছেদ করে ভূমিদাসে পরিণত করে। এতদসত্ত্বেও কিছু দূরদর্শী মুসলিম ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ১৯৪৭ সালে বিশাল ভারতবর্ষের একটি ক্ষুদ্র অংশে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়। এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডেও যাতে মুসলমানরা ক্ষমতাসীন থাকতে না পারে, সে লক্ষ্যে ইঙ্গ-হিন্দু শক্তি ৪৭ পরবর্তী সময়ে পুনরায় চক্রান্ত শুরু করে।এই চক্রান্তের শুরুতেই পাকিস্তানের ইসলামী ঐক্যকে দুর্বল ও ধ্বংস করার লক্ষ্যে প্রথমে মুসলিম ছাত্রলীগ, তারপর আওয়ামী মুসলিম লীগ এবং সর্বশেষে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাদের সাথে যোগ করা হয় সাম্রাজ্যবাদ সৃষ্ট কমিউনিস্ট পার্টিসমূহ এবং অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেসকে। এভাবেই প্রথমে পাকিস্তানের মুসলমানদেরকে দ্বিধাবিভক্ত করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়। অতঃপর বাংলাদেশী মুসলমানদেরকে দ্বিধাবিভক্ত করার জন্য বাঙালি/বাংলাদেশী, স্বাধীনতার পক্ষ/বিপক্ষ, ধর্মভিত্তিক/ধর্মনিরপেক্ষ ইত্যাকার শ্রেণিভেদ সৃষ্টি করা হয়। ইতোপূর্বে অর্থাৎ ১৭৫৭-১৯৪৭ সময়কালে ভারতের উগ্রহিন্দুরা মুসলমানদের উপর যে অত্যাচার-নির্যাতন চালাত, বর্তমান বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ভারতপন্থীরা ধর্মভিত্তিক ও ধর্মীয় ভাবাপন্ন মুসলমানদের উপর একই প্রকার অত্যাচার-নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করছে। হিন্দু শাসনে ভারতের মুসলমানরা যেরূপ অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার- বাংলার মুসলমানরাও আওয়ামী শাসনে একইরূপ অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। প্রশ্ন উঠতে পারে- আওয়ামীলীগ কি মুসলমানদের দল নয়?



Reviews
There are no reviews yet.